আমলকীর খাওয়ার অসাধারন উপকারিতা । দুর হবে জটিল কঠিন রোগ

প্রিয় পাঠক, আমাদের দেহের সবচেয়ে উপকারি ভেষজ ফল হল আমলকী। আমলকীতে অসংখ্যা ভিটামিন বিদ্যমান। আমলকী হল একটি অতি উপকারী ফল যা প্রাচীন যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক ইউনানী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।এটি ঔষধি গুণাগুন সমৃদ্ধ বহু পরিচিত ফল। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মানসিক চাপ কমায়।আমাদের নিয়মিত আয়োজন টিপস্ এন্ড ট্রিকস এর আজকে পর্বে আলোচনা করব আমলকীর বহু ব্যবহার ও এর উপকারিতা নিয়ে।

 

আমলকী একটি ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ ফল। এটি দামে সস্তা ও সহজলভ্য, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। আমলকীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণ বিটামিন সি থাকে। আআয়ুর্বেদিক ইউনানী চিকিৎসায় স্খাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দূর করে আমলকী। প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে নিয়মিত একটি করে আমলকী খেতে পারেন।এটিতে রয়েছে দারুণ সব উপকার।আমলকীকে আচার বা শুকিয়ে পাইডার বানিয়ে খেতে পারেন।এই পাউডার বিভিন্ন রান্নার ব্যবহার করতে পারবেন। সামান্য আমলকী আপনার দেহের জন্য খুবই কার্যকরী।

 

আমলকীর পুষ্টিগুণঃ-

আমলকী অনেক ভেষজ গুণ কার্যকরী ফল। আমলকী গাছের ফল ও পাতা দুটিিই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে যা একটি পেয়ারার চেয়ে ৩ গুণ ,কমলার চেয়ে ১৫ গুণ,আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ,আমের চেয়ে ২৪ গুণ, কাগজি রেবুর চেয়ে ১০ গুণ কলার ৬০ গুণ পুষ্টি বিদ্যমান রয়েছে বলে গবেষণার জানা যায়।নিয়মিত আমলকী খেলে মুখের রুচি বহু অংশে বৃদ্ধি পায়।

আমলকী খাওয়ার উপকারিতাঃ-

 

১/চুলের সৌন্দর্যে আমলকীঃ-

চলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমলকীর কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত আমলকীর রস ব্যবহার করলে চুলে রক্ত সন্ঝালন বৃদ্ধি করে, চুলের গভীরে পৌঁছে চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলকে মজবুত করতে সহয়তা করে।

*আমলকী শুকিয়ে সেটি গুঁড়া করে নিন, সাথে ভিটামিন ই ক্যাবসুল, নারিকেল তেল, মেহেদীর পাতা গুঁড়া ও অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মিশ্রণ করে পেষ্ট তৈরি করে সেটি চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। ২০/২৫ মিনিট রেখে দিয়ে শাম্পু করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অবশ্যই শাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

*আমলকীর রস ,নারিকের তেল, শিকাকাই এবং অ্যালোভেরার জেল ভালোভাবে মিশিয়ে পেষ্ট তেরি করুন। পেষ্টটি চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন আর ২৫ মিনিট পর শাম্পু করে ধুয়ে নিন। এত চুল কোমল ও ঝলমলে হবে সাথে খুশকি সমস্যাও দূর করবে।

২/ত্বক উজ্জ্বল করে আমলকীঃ- ত্বকের কালো দাগ, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে ত্বককে আরও উজ্জ্বল করতে প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে আমলকীর রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

৩/হজম সমস্যা দূর করার জন্য খেতে পারেন। প্রথমে শুষ্ক আমলকী হালকা গুঁড়ো করে তার এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন।এতে করে হেজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সাথে আমলকীর আচার হজমের সহয়তার পাশাপাশি ভিটামিন সরবাহ করে। এটি পেটের গোল যোগ ও বদ হজম রুখে থাকে।

 

৪/ দৃষ্টি শক্তি বাড়ায় আমলকীঃ- আমলকীর রস চোকের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও চোখের চুলকানি ও পানি পড়া সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। এছাড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে চোখকে বাঁচার। আমলকীতে থাকা ফাইটো- কেমিক্যাল চোখের সঙ্গে জড়িয়ে চোখের ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করে। তাই চোখের জন্য আমলকী খুবই উপকারি।

৫/ মুখের দুর্গন্ধ দূর করেঃ- অনেকই মুখের দুর্গন্ধ সমস্যার ভোগি। এই দুর্গন্ধ দূর করার জন্য প্রতিদিন আমলকীর রস খেতে পারেন। আমলকীর রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় সাথে দাতে জন্য এই রস খুবই কার্যকরী। এটি দাঁতকে শক্ত করে তুলে।

 

৬/রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আমলকীঃ- আমলকী শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার। ভাইরাস ও ব্যাক্টোরিয়াল ফলে সর্দি কাশি সরতে সাহায্য করে।

৭/ আমলকীর রস পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

 

৮/মুখের রুচি বৃদ্ধি করেঃ-আমলকী মুখের স্বাদ বহু অংশে বাড়িয়ে দেয়। আমলকীর টক ও তেতো হওয়ার মুখের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। মুখের রুচি বৃদ্ধির জন্য ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকীর গুঁড়োর সাথে মধু বা মাখন মিশিয়ে খাবার খাওয়ার আগে খেতেদ পারেন। এতে আপনার মুখের রুচি অনেক অংশে বেড়ে যায়।

৯/এটি শরীরে হার্ট ও ফুসফুসকে আরো শক্তিশালি করে। মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এর কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

১০/আমলকী ডাযাবেটিসের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

পাঠক,আমলকী বহু রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়।