অ্যালোভেরার বিস্নময়কর গুনাগুণ । কোন সমস্যায় কী ভাবে ব্যবহার করবেন অ্যালোভেরা?

প্রিয় পাঠক: অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ। এটিতে অনেকেই ঘৃতকুমারী হিসেবে চিনে। অ্যালোভেরার ভেষজ গুণের শেষ নেই।অ্যালোভেরা আয়ুর্বেদিক ইউনানী চিকিৎসার ব্যবহার হয়ে থাকে। এটির রস বা জেল মানব শরীরের জন্য খুবই কার্যকরী। আমাদের নিয়মিত আয়োজন টিপস্ এন্ড ট্রিকস এর আজকে পর্বে আলোচনা করব ভেষজ গুণ সমৃন্ধ অ্যালোভেরা ব্যবহার করার নিয়ম ও এর উপকারিতা।

অ্যালোভেরা উপকারি ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতা মাঝে মাঝে যে স্থিতিস্থাপক অংশটা আছে এটির অ্যালোভেরার মুল উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি- অক্সিডেন্টস আছে, যা শরীরের বিভিন্ন উপকার করে। এছাড়াও এটিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা তেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় অ্যালোভেরা ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্তমানে অনেকের কাছে অ্যালোবেরার শরবত বা জুস খুবই জনপ্রিয়।

অ্যালোভেরার গুনাগুণ ও ব্যবহার বিধি জেনে নেইঃ-

১/ ত্বক উজ্জ্বল করে অ্যালোভেরাঃ-
অ্যালোভেরা পাতা তথা জেল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত। অ্যালোভেরা মুখের ব্রণ সারাতে খুবই কার্যকরী। প্রথমের অ্যালোভেরা পাতা হতে জেল বের করে নিতে হবে। অ্যালোভেরা জেলের সাথে বাদাম গুঁড়ো মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।তারপর মিশ্রণটি ভালোকরে মুখের লাগিয়ে আধা ঘন্টা অপেক্ষা করুন।তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক ফর্সা করার পাশাপাশি ব্রণ সমস্যা দূর করে থাকে। অন্যদিকে বাদাম গুঁড়ো মুখে জমে থাকা ময়লা এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করে থাকে।

২/ ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখেঃ-
শরীর বা মুখে ছোট ছোট কাটা- পোড়ার দাগ, অ্যালার্জি সহ ত্বকের যেকোনো সমস্যা দূর করতে অ্যালোভেরার জুড়ি নাই। অ্যালোভেরা নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে।এটি সরাসরি পাতা থেকে সংগ্রহ করা যায়। অ্যালোভেরা জেলের সাতে মধু, দুধ, হলুদ,মিশিয়ে মুখের লাগিয়ে রাখলে মুখের ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর হয়ে যায়।

 

৩/হজম শক্তি বাড়ায় অ্যালোভেরাঃ-
হজম শক্তি বাড়াতে অ্যালোভেরার কোনো তুলনা নাই। অ্যালোভেরার থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে ও পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করে। নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একবার পানির সাথে মিশিয়ে এর শরবত খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। এটি পেটের যাবতীয় সমস্যা গুলো দূর করে থাকে।

৪/ওজন কমাতে অ্যালোভেরাঃ-
অ্যালোভেরা দূত ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট আগে অ্যালোভেরার রস খেতে পারেন। এক চামচ অ্যালোভেরার রস যা হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে, যা দুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি খেলে শরীরের জমে থাকা ফ্যাট খুব দূত নষ্ট হয়ে যায়। পানির সাথে ৫০ মিলি অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। তাহলে দূত আপনার শরীরের ওজন কমবে।

 

৫/ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করে অ্যালোভেরাঃ-
বর্তমানে অনেকেই ডায়াবেটিস সমস্যার ভোগেন। ‍নিয়মিত পানির সাথে অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে খেলে ডায়াবেটিস অনেক অংশে নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে আনে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেতে পারেন।

৬/ দাঁতের যত্নে অ্যালোভেরাঃ-
অ্যালোভেরা রস দাঁতের জন্য খুবই উপকারি। অ্যালোভেরা জুস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এটি দেহ থেকে দুষিত রক্ত বের করে আনে। এছাড়াও অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার ফলে হার্টকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খেলে দাঁতের মাড়ির ব্যথা দূর করে দাঁতকে সুন্দর ও সুস্থ রাখে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খেলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা য়ায়।

 

পাঠক, অ্যালোভেরা ভেষজ উদ্ভিদ। এটিতে শরীরের জন্য উপকারি বিভিন্ন উপাদান বিদ্যামান থাকে। ত্বকে ব্যবহার করার জন্য জেল হিসেবে ব্যবহার করা য়ায় তেমনি এটি খাওয়ার জন্য রস বের করে জুস করে খাওয়া যায়। এছাড়াও অ্যালোভেরা খাওয়ার ফলে মাংসপেশী বা জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।মুখের ভেতর গা সায়িরে তুলে। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। শরীরের ক্লান্তি দূর করে। তাই আমাদের নিয়মিত এই ভেষজ উদ্ভিদটি ব্যবহার করে সুস্থ থাকি। ধন্যবাদ