চিকন থেকে মোটা হওয়ার ঘরোয়া টিপস কোন প্রকার ওষধ ছাড়াই

মোটা হওয়ার টিপস :  প্রিয় পাঠক আপনারা অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন কিভাবে সহজেই মোটা হওয়া যায়।আমাদের নিয়মিত টিপস্ এন্ড ট্রিকস আয়োজনের আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে সহজেই মোটা হওয়া যায়।আজ আমরা আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা করবো কিভাবে সকাল,দুপুর, রাতে কি খাবেন,কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

বর্তমানে শরীরের ওজন বাড়াতে আমরা নানা রকম ভুল পন্থা অবলম্বন করি,যার ফলস্বরূপ শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অনেকের।

অতিরিক্ত মোটা বা চিকন একজন মানুষের জন্য খুবই অস্বস্তিকর।অনেকেই মোটা হতে অনেক কিছু ব্যবহার করেন কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এর উপকার পাচ্ছেন না।বয়স ও উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়া একটি বড় সমস্যা।

মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলো জানার আগে আমাদের জানতে হবে মোটা না হওয়ার কারন গুলো কি বা সমস্যা কোথায়। মোটা না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, ঠিকমত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ঘুমানো বা অনেক কম ঘুমানো, মাদক গ্রহন বা ধুমপান করা,মাত্রা অতিরিক্ত শারিরীক বা মানসিক পরিশ্রম করা,সব সময় মানসিক দুশ্চিন্তার থাকা মোটা না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

সহজের মোটা হতে যেসব খাবার খাবেন:

সকালের হালকা নাস্তাঃ-

প্রথমে চলে আসি সকালের নাস্তা।ওজন বাড়াতে সকালের নাস্তার যেসব খাবার যুক্ত করতে পারেন তার মাঝে অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হলো,দুধ,কলা,ডিম ও খেজুর।

দুধঃ আমাদের শরীরের যত ধরনের পুষ্টি দরকার তার সবগুলোই দুধের মাঝে বিদ্যমান।দুধে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা মানব শরীরে হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে,ভিটামিন-বি যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। দুধ সহজলভ্য খাবার যেকোনো খাবারের পর এক গ্লাস দুধ খাওয়া যায়।এটি আপনাকে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

কলাঃ আমাদের দেশে কলা একটি সহলভ্য ফল,বাজারে সবসময় পাওয়া যায়।কলাতে রয়েছে ভিটামিন- বি যা মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কলার ফাইবার হজমের সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমায়।তাই সকাল বেলাতে ১/২ কলা খেতেই পারেন।

ডিমঃ ডিম একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার।এটিতে প্রচুর পরিমানের ভিটামিন-এ যা চোখ ভালো রাখে,ভিটামিন-বি যা ত্বক ভালো রাখে,এতে রয়েছে জিংক যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।এটি একটি সহজলভ্য খাবার,যেকোনো খাবারের সাথে একটি সিদ্ধ ডিম খাওয়া যায়।ভাজি ডিম না খাওয়াই উওম।

খেজুরঃ খেজুর একটি বহুগুণ ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার,এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আইরন যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।খেজুরের পুষ্টিগুণ অসাধারণ, তাই সকাল বেলাতে কয়েকটি খেজুর খাওয়া শরীরে জন্য ভালো।যা শরীর মোটা হতে সাহায্য করবে।

দুপুরের খাবারঃ-

দুপুরে খাবারের মাঝে নিয়মিত ডাল রাখবেন, ডালের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আইরন সহ প্রচুর পরিমাণের পুষ্টিগুন আছে।সবগুলোই শরীর সুস্থ ও মোটা করতে সাহায্য করে।ওজন বাড়াতে দুপুরে খাবারে টক বা মিষ্টি দই রাখবেন তাতে আপনার শরীর মোটা সহজেই কাজ করে। কিন্তু দই নিয়মিত না খাওয়াই ভালো।খাবার তালিকা মুরগির মাংস রাখতে পারেন।খাসী ও গরুর মাংসের চেয়ে এটি বেশি কার্যকরী।

দুপুরে আপনি চীনা বাদামের সাথে সাথে অন্য বাদাম গুলো খেতে পারেন,যা আপনার শরীরে নানা রকম পুষ্টিগুণের সহয়তা করবে এবং আপনার শরীর মোটা করবে।সাাথে নিয়মিত কিসমিস খেতে পারেন পারেন অনন্য খাবারের সাথে যুক্ত করে, যা ওজন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়াও খাবারের সাথে বিভিন্ন ধরণে খাদ্য জাতীয় বীজ খেলে যেমন,তিসি,কালোসস,মিষ্টি কুমড়ার বীজ,সূর্যমূখী বীজ ভাত বা তারকারীর সাথে মিশিয়ে খেলে অনেক ধরণের পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

এছাড়াও সাগুদানা ও কাস্টারড পুডিং খেয়েও ওজন বাড়ানো যায়।

অবশ্যই খাবার গুলো অতিরিক্ত খেতে হবে না।নিয়মিত খেয়ে অবশ্যই আপনার ওজন বাড়বে।

এছাড়াও আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক ও শারীরিক ভাবে ফিট থাকবে এটি ওজন বাড়াতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ওষুধ খেয়ে মোটা হওয়ার/মোটা হওয়ার টিপস:

সচরাচর বর্তমানে ওষুধের দোকান গুলোতে কম সময়ের মাঝে মোটা হওয়ার জন্য অনেকগুলো ওষুধ পাওয়া যায়,যেমন পুদিনা এস,রুচিট্যাব,রুচিমেড,আমলকী ইত্যাদি। এসব ওষুধ ভিটামিন ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে পরিচিত হলেও আসলেই এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর ও ঝুকিপূর্ণ। তাই আমাদের কম সময়ে মোটা হওয়ার জন্য এসব ওষুধ খাওয়ার চিন্তা মাথা হতে ঝেড়ে ফেলতে হবে।আজেবাজে ওষুধ খেয়ে শরীর মোটা করার চেয়ে এটি শরীরে নতুন রোগের বাসা বাধতে সহযোগিতা করে।তাই এটি পরিহার করতে হবে আমাদের। অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।তাহলেই উপকৃত হবেন।

ধন্যবাদ পাঠক আমাদের সাথে থাকার জন্য।নিয়মিত ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান এবং দূত সময়ের মাঝে সহজেই মোটা হোন।

 

দ্রুত সময়ে ত্বকের দাগ দূর করতে টমেটোর অত্যন্ত কার্যকরী কিছু ফেসপ্যাক

 

চাকরির জন্য ভাইভা প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক প্রশ্ন